অভিপ্রায়

আপনার সকল প্রচেষ্টাকে একটা কিছুর দিকে ধাবিত করুন, কোথায় যেতে চান সেটির দিকে দৃষ্টি দিন। কাজ আসলে মানুষকে বিরক্ত করে না, কিন্তু উদ্দেশ্যবিহীন কাজই মানুষকে পাগল করে তোলে।

সেনেকা, মনের প্রশান্তি প্রসঙ্গে

কোথায় যাবেন তা যদি না জানেন তাহলে আপনি যেকোনো স্থানে যেতে পারেন, অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো স্থানে। নদীতে নৌকা ছেড়ে দিয়ে চুপ করে ভেসে যেতে দিলে স্রোতের টানে সেটি কোথাও না কোথাও যাবে। তেমনি আপনার কাজের উদ্দেশ্য না থাকলে সেটি কিছু একটা করবে হয়ত, কিন্তু সেটি আপনার কোনো উপকারে আসবে কি না বলা যায় না।

অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর চেশায়ার ক্যাট মধ্যকার অ্যালিসের সেই বিখ্যাত কথোপকথনটা স্মরণ করা যেতে পারে।

অ্যালিস: দয়া করে আমাকে বলবে কি এখান থেকে আমি কোনদিকে যাবো?

চেশায়ার ক্যাট: তার অনেকটাই নির্ভর করবে তুমি কোথায় যেতে চাও তার উপরG

অ্যালিস: কোথায় যাবো সেটা কোনো ব্যাপার না আমার কাছে।

চেশায়ার ক্যাট: তাহলে কোন পথে যাবে সেটাও কোনো ব্যাপার না। যেপথেই যাও না কেন যেতে পারবে।

অ্যালিস: … একটা কোথাও পৌঁছালেই চলবে।

চেশায়ার ক্যাট: বেশ সেটা করতে চাইলে কেবল হাঁটতে থাকো, পথ বাছাইয়ের দরকার নেই।

উদ্দেশ্যহীন কাজেরও তেমনি অবস্থা। কিছু একটা করতে থাকুন, কিছু একটা হবে। রবার্ট গ্রিনের একটা বিখ্যাত বই আছে: The 48 Laws of Power। এর মধ্যে তার বর্ণিত একটা নিয়ম হলো শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা করো। যেখানে যেতে চান সেখান পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করতে বলেছেন গ্রিন। সেটি করতে পারলে এটা-সেটা এসে আপনার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, আর এরকম বাধা আসলেও সেগুলো উৎরাতে পারবেন। কারণ আপনি আপনার গন্তব্য জানেন। বিকল্প পথে হলেও সেখানে পৌঁছাতে পারবেন।

ক্ষমতার ৪৮টি নিয়ম, লেখক রবার্ট গ্রিন

সেই একই কথা প্রতিধ্বনি শুনি স্টিভেন কোভের কণ্ঠে। তাঁর বিখ্যাত বই সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি এফেক্টিভ পিপল -এ। এর মধ্যকার দ্বিতীয় অ্যভেসটাই হলো শেষটা মাথায় রেখে শুরু করো। অর্থাৎ কোথায় যেতে চাও সেটি মাথায় রেখে যাত্রা শুরু করো।

যেখানে যেতে চান সেটি মাথায় থাকলেই যে আপনি সেখানে পৌঁছে যাবেন তার নিশ্চয়তা নেই। তবে সম্ভাবনা আছে বেশি। কিন্তু সেই গন্তব্য যদি আপনি না জানেন তাহলে কোনো সম্ভাবনাই নাই সেখানে পৌঁছার। স্টইক দর্শনের মধ্যে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা বর্জনীয়। কারণ উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা মানে আপনার শক্তির ক্ষয়, বিরক্তির উৎস।

ধরুন আপনি সারাদিন উদ্দেশ্যহীনভাবে এটাসেটা করলেন। তারপর দিনশেষে আপনার অর্জন কী? আপনার এই অযথা ব্যস্ততা কি কারো কাজে লেগেছে? কাজে লেগেছে কি আপনার? এরকম কাজ অর্থ, সময় ও শক্তির অপচয়। এরকম কাজ আপনাকে শীঘ্রই সমাজের অকার্যকর সদস্য হিসেবে পরিণত করবে। আপনার কাজগুলো কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত না হলে আপনি সকালে উঠে কীভাবে বুঝবেন যে সেদিন আপনার কী করা দরকার? আর দিনশেষেই বা কীভাবে বুঝবেন যে আপনি ঠিক কাজটি করেছেন? আপনি যখন কোনো গন্তব্যে যাচ্ছেন তখন বুঝতে পারেন ঠিক রাস্তায় যাচ্ছেন কি না, কিন্তু গন্তব্য যদি ঠিক না থাকে তাহলে রাস্তাটা ঠিক না বেঠিক সেটি বিবেচনার উপায় থাকে না।

নিজের সুস্থতার জন্য, মানসিক প্রশান্তির জন্য, কিছু অর্জনের জন্যই চাই অভিপ্রায় নিয়ে কিছু করা। আপনার লক্ষ্য যত পরিষ্কার, গন্তব্যে যাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেশি। তাই, যেকোনো কাজে লক্ষ্য স্থির করুন, অভিপ্রায়ের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করুন।

Series Navigation<< আসক্তিনৈশভোজ? >>

Leave a Reply

%d bloggers like this: