ইয়োকোহামা

ইয়োকোহামায় পৌঁছুলাম রাত বারোটায়। ঝলমলে শহর নজরে পড়ছে। আর বেশি কিছু বোঝা যায় না। পোর্টটা দেখে আমাদের দেশের মতোই মনে হয়। সেই একই রকম জেটি, সারি সারি কনটেইনারের স্তুপ, লম্বা কার্গোশেড। কার্গো শেডের ওপারেই আরেকটি জাহাজ, এম. ভি. হায়দ্রাবাদ। পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ।

জাহাজ ভেড়ার পরপরই  আমার ডিউটি শেষ। কেবিনে এসে শুয়ে পড়ি। কেমন হবে ইয়োকোহামা শহর এই চিন্তায় ঘুম আসে না। ইয়োকাহামার নাম শুনেছি অনেক আগে। জাপানের প্রধান বন্দরগুলোর অন্যতম এটা। শিল্পাঞ্চল হিসেবেও খ্যাতি আছে। আমাদের দেশে জাপানী অনেক জিনিসের গায়েই ইয়োকোহামার নাম দেখা যায়। টোকিও নাকি এখান থেকে কাছেই।

ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে হইচই। কাপড় পড়ে তাড়াতাড়ি গ্যাংওয়েতে যাই। দেখি, সবাই জাহাজ থেকে নেমে অপেক্ষা করছে। একটা মাইক্রোবাস এসেছে; পুরাতন মাল বোঝাই তাতে। চালক সেটা খুলতে চাচ্ছে না। কিন্তু সবাই চায় সে মালগুলো দেখাক।

জাপানের বন্দরগুলোতে, বিশেষ করে কোবে আর ইয়োককোহামায়, এই এক সুবিধা। পুরাতন রেডিও-টিভি-ফ্রিজ সবই পাওয়া যায়। কোবেতে ওসব কিনে নিয়ে আসতে হয় মার্কেট থেকে। ওখানে পুরাতন জিনিসের এক বিরাট মার্কেট আছে। ইয়োকোহামায় আরও সহজে পুরাতন মাল পাওয়া যায়। গাড়ি বোঝাই হয়ে চলে আসে জাহাজের কাছে। আমাদের জাহাজীরা তাই নিয়ে কাড়াকাড়ি করেন। এসব এতদিন শুনে এসেছি, ক্রুরা গল্প করেছে। দেশে থাকতে সতর্কও করে দিয়েছে। গ্রিজার শাহাবুদ্দিন বলেছে, সাব, বেশি কইরা ডলার লন। জাপান গিয়া ফ্রিজ কিনলে লাভ হইব। তার কথায় কান দিইনি। এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি।

নাস্তার জন্যে সেলুনে ঢুকি। সেখানে আছে ফোর্থ ও ফিফথ ইঞ্জিনিয়ার। হঠাত্‍ দেখি তারা উঠে দৌড় দিলেন। কি ব্যাপার বুঝে ওঠার আগেই দেখি স্টুয়ার্ড মুজিব দৌড়াচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে কেবল বলল, ‘আইছে, আইছে!’ অগত্যা তার পেছন পেছন আমিও দৌড় দিই। দেখি জেটিতে একটা লরী দাঁড়িয়ে আছে। গোটাটাই ফ্রিজে ভরা। ক্রুরা সবাই ফ্রিজ নিয়ে টানাটানি করছে। সাথে সাথে অফিসাররাও। এ অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। এখানকার মতো অন্য কোনো পোর্টে এরকম পুরনো জিনিসের বহর নজরে পড়েনি। তবে দেখেছি, ক্রু থেকে ক্যাপ্টেন সবাই শপিং করছে ইচ্ছেমতো। খালিহাতে শোরে গিয়েছে, ফিরেছে একগাদা জিনিস নিয়ে। এখানে পুরো আসবাবপত্রই যখন হাতের কাছে পাওয়া যাচ্ছে তখন চুপ করে থাকবে কে? সবাই কাড়াকাড়ি করছে। দরাদরি করছে। দেখি, চিফ অফিসার চিৎকার করছেন, টোয়েন্টি ডলার, টুয়েন্টি ডলার! তিনি একটা পুরনো ফ্রিজ ধরেছেন। সেটারই দাম হাঁকছেন। কিন্তু বিক্রেতার কোনো সাড়া মিলছে না। তার চেহারাও দেখতে পাচ্ছি না।

এমন সময় স্টুয়ার্ড শাহ আলম এসে বলে, ‘উপরে দাড়াইয়া কী দ্যাখেন সাব, নিচে নাইমা আসেন।‘বলতেই সিঁড়ি দিয়ে তর তর করে নিচে নামে। তার পিছে পিছে আমিও নামি। সব ক’টা ফ্রিজই লরী থেকে নামানো হয়েছে। সবাই এক একটা দখল করেছে। দরদরি করছে। কেউ বিশ ডলার, কেউবা ত্রিশ ডলারে রফা করলেন। এরই মধ্যে আরেকটি লরী এসে হাজির। এটাতে ফ্রিজ নেই। সেলাই মেশিন, ক্যাসেট প্লেয়ার, সিডি প্লেয়ার, ডেকসেট আর ভিসিপিতে ভর্তি। সবাই রেডো-ক্যাসেট প্লেয়ার নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। আমি একটা টিভি ধরি। দাম মাত্র পাঁচ ডলার বা ২০০ টাকা। কালার টিভি পাঁচ ডলারে পাওয়া যাবে শুনে অবাক হই। এমন সময় গ্রিজার শাহাবুদ্দিন এসে বলে, ‘সাব, এই টিভি লইয়েন না। এইটা আমাগো দেশে চলবো না।‘

তার কথায় কান দিই না। জাপানের তৈরি টিভিই তো আমাদের দেশে চলছে। আমি টিভিটা ছাড়ছি না দেখে এগিয়ে আসেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। সে বুঝিয়ে বলে, ‘এ টিভি শুধু জাপানেই চলবে। আমাদের দেশে চলবে না।‘ তার কথায় ভুল ভাঙে। পাশে তাকিয়ে দেখি শুধা আমাদের ক্রুরাই নয়, এম. ভি. হায়দ্রাবাদ থেকেও ক্রুরা এসেছে। তারা কয়েকটি সুন্দর সিডি সেট নিয়েছে। বিনা দরাদরিতেই নিয়ে নিল কয়েকজন। আমাদের পছন্দের সব জিনিস ওরা নিয়ে যাচ্ছে দেখে সবাই বেশ খেপে যায়। ঠিক করা হলো, এবার লরী আসার সাথে সাথে আমরা সব দখল করব যাতে ‘পাকু’রা না পায়। কিন্তু পররে লরীটা আমাদের এখানে দাঁড়াতে চেয়েও দাঁড়ায় না। এক পাকিস্তানীর ইশারায় চরে যায় এম. ভি. হায়দ্রবাদের  সামনে। আমরা দুর থেকে দেখলাম, ওরা সব জিনিস কিনে নিচ্ছে। এসময় চিফ অফিসার এসে জানায় ওরা না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। ওদের সাথে আমরা পারব না। আমাদের পোর্টে সব কিছুর ট্যাক্স দিতে হবে। কিন্তু পাকিস্তানে পোর্ট ট্যাক্স ফ্রি। সেজন্যই ইচ্ছমতো জিনিস কিনতে পাকুরা ভয় পাচ্ছে না। আর পাঁচ ডলারে কেনা জিনিসে কয় হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হবে সে হিসেব কষতে হচ্ছে আমাদের।

দুপুরের পরপরই এম. ভি. হায়দ্রাবাদ সেইল করল। আমরা মহাখুশি। যাক, প্রতিদ্বন্দ্বী কমল। এবার জিনিসপত্রের দাম কমবে। সহজেই পাওয়া যাবে সব।

লাঞ্চের আগেই শোর পাস দিয়ে গেছে স্টুয়ার্ড। দেয়ার সময় মিটিমিটি হাসল। মনে হলো বলতে চাইছে, স্যার, নামবেন নাকি? আমি বিশেষ কিছু বলি না। রোববারের বিশেষ লাঞ্চ পেটপুরে খাই।

লাঞ্চ সেরে সেলুন থেকে বেরুতেই নজরে পড়ল আরেকটা লরী আসছে। সব ক্রুই দৌড়ে গ্যাংওয়ে দিয়ে নামছে। মনে হলো ঝুলন্ত সিঁড়িটা ভেঙে পড়বে এখনই।

তাদের কারবার দেখার জন্য বোট ডেকে দাঁড়াই। একটা লরী এসে তামে। এটাতে ফ্রিজ আচে অনেকগুলো। আর আছে ডেকসেট, টিভি ও সেলাই মেশিন। কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আমার সামনে দিয়ে দৌড়ে যায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। গিয়েই একটা সেলাই মেশিন নিয়ে আসে।

‘কত হলো?’, জিজ্ঞেস করি।

‘মাত্র দশ ডলার,’ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ‘আপনিও একটা নিয়ে আসেন।‘ তার কথামতো নিচে নামি। তখনও কয়েকটা সেলাই মেশিন পড়ে আছে। কেউ হাত দেয়নি। একটা ধরি। দাম দশ ডলার।

এবার সবাই মিলে লাইন দিই সিঁড়ির নিচে। সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার, চিফ অফিসারও আছেন। আমি, সৌরভ আর আলী ওকানে দাঁড়িয়ে থাকি চুপ করে। আলী ঠিক করেছে একটা ফ্রিজ কিনবে। আমরা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলাম। বোঝালাম ফ্রিজ কেনা অনেক ঝামেলার ব্যাপার। ট্যাক্স লাগে অনেক বেশি। ফাঁকি দেয়ার কোনো পথ নেই। বরং ছোটখাটো কিছু কিনলে লাভ আছে। সুযোগমতো বিক্রি করে দেয়া যাবে। এসব বুদ্ধি আমাদের নয়। ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার ও থার্ড ইঞ্জিনিয়ার আমাদের বুঝিয়েছেন। তিন সাবের কথা হলো, ফ্রিজ কেনা মানে লাইফ হেল হয়ে যাওয়া।

আলীর লাইফটা হেল হোক তা আমরা চাইনি। তাই ওকে বেশি করে বোঝাতে থাকি। ও গোঁয়ারের মতো আরো বেশি করে ফ্রিজ কেনায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। কারণ তার বস নাকি বলেছেন, একটা ফ্রিজ কিনলে লাভ হবে মোটা অঙ্কের। বসের কথা অমান্য করার সাধ্য আলীর নেই।

সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। শোরপাস পাওয়ার পরও কেউ শোরে যাচ্ছে না দেখে অবাক হই। অন্য বন্দরে হলে কেউ এতক্ষণ অপেক্ষা করত না। বিশেষ করে চিফ অফিসার। বন্দরে পৌঁছার পরপরই আলী কিংবা অন্য কারও ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে তিনি শোরে ছুটতেন। আজ তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। শোরের চেয়ে লরীর প্রতি আকর্ষণ আজ বেশি মাত্রায় দেখা যাচ্ছে। অন্যরাও একই রকম।

বিকেল তিনটায় প্রস্তুতি নিই বাইরে যাওয়ার। সৌরভ আর আমি হাঁটতে হাঁটতে গেট পার হই। তারপর ডানদিকের রাস্তা ধরে এগোই। কিন্তু বেশিদূর যাওয়ার সাহস হয় না। কারণ সাথে ইয়েন নেই। এখানেও সেই একই সমস্যা, ডলার ভাঙানো যাবে না। ব্যাঙ্কে ভাঙাতে হবে, আগামীকাল, অফিস সময়ে। তাই এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে ফিরে আসি।

আসার পথে গেটের কাছাকাছি দেখা হয় আমাদের ক্রুদের সাথে। বেশ কয়েকজনের দল। স্টুয়ার্ড শাহ আলম আর গ্রিজার শাহাবুদ্দিনও আছে। সবারই পরনে জ্যাকেট। বেশ মোটাসোটা লাগছে। মনে হয় ভেতরে কিছু লুকানো।

শাহাবুদ্দিন বলে, ‘স্যার, আসি। মার্কেটে ভাল ডেকসেট পেলে আপনার জন্য নিয়ে আসব’।

জানি, ওই পর্যন্তই। ওরা আর ফিরে আসবে কি না সন্দেহ।

ওরা বেরিয়ে যায়। আমি আর সৌরভ চুপ করে দেখি।

জাহাজের কাছে এসে দেখি আরেকটি লরী এসেছে। ক্যাসেট প্লেয়ার ভিসিপ ও অন্যান্য  জিনিসে ভরা। চিফ অফিসার একটা বড় স্যুটকেস ধরেছেন। পাঁচ ডলার দাম হাঁকছেন ওটার। ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার দুটো ডেকসেট দখল করেছেন। 

কয়েকটা ক্যাসেট প্লেয়ার তখনও অবশিষ্ট আছে। ওখান থেকে একটা বেছে নেই। পাঁচ ডলার দাম।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। তারপর রাত। আটটার সময় ডিউটিতে নামি। আমার গ্রিজার শাহাবুদ্দিন নেই। এখনও শোর থেকে ফেরেনি। সলমদ্দি বিদায় নিল ইঞ্জিনরূম থেকে। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আজ নিজের হাতে কফি বানালাম। গোটা ইঞ্জিনরূমে আমি একা। বিশ্রি একঘেঁয়ে শব্দ করে চলছে ইয়ানমার জেনারেটর। হঠাত্‍ কোনো বিপদ হলে আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই। সে কথা ভেবে চুপ করে কন্ট্রোল রুমে বেস থাকি। কাপের পর কাপ কফি ধ্বংস করি।

সৌরভ আসে বেশ হাসি খুশি মেজাজে। ও একটা ডেকসেট কিনেছে। কেনার পর বাজিয়েও দেখেছে। সাথে চল্লিশ ওয়াটের স্পিকার। ডাবল ডেক, অটোরিভার্স। শুনে আমি থ’। দাম মাত্র বিশ ডলার।

তাড়াতাড়ি উপরে গিয়ে আমিও আমার ক্যাসেট প্লেয়ারটা বাজাতে চেষ্টা করি। কিন্তু সমস্যা হলো ট্রান্সফরমার লাগবে। ২২০ ভোল্ট থেকে ১১০ ভোল্ট করতে হবে। নিচে ইঞ্জিনরুমে একটা আছে। ওখানে গিয়ে চেষ্টা করি, কিন্তু কোনো শব্দ হয় না। মনটা খারাপ হয়ে গেল।

ইঞ্জিনরুম থেকে ফিরে এসে কেবল ঘুমানোর আয়োজন করছি, এমনসময় স্টুয়ার্ড মুজিব এসে দরজায় নক করল। দরজা খুলতেই বলল, ‘স্যার, শোর পাসটা জমা দেন’।

‘এত রাতে শোর পাস জমা কেন?’ জিজ্ঞেস করি তাকে।

‘শোর থেকে কেউ এখনও আসেনি, সাব। তাই ক্যাপ্টেন সাব কইছেন সব পাস জমা নিতে’, বলল মুজিব।

ড্রয়ার থেকে শোর পাসটা বের করে মুজিবকে দিলাম। তাড়াতাড়ি ফোন করি ইঞ্জিনরুমে। আমাদের কেবিনে যে ফোন সেট আছে আগে সেটা কাজ করত না। সৌরভ একদিন খোঁচাখুচি করে দেখতে পেল, এটা একমুখী। বাইরে করা যাবে, কিন্তু বাইরে থেকে আসবে না। আবার ফোন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। একটা ওয়েল্ডিং রডের মাথা চ্যাপ্টা করে নেয়া হয়েছে। সেটা দিয়ে বাটনে চাপ দিতে হবে। ওভাবে চাপ দিতেই ফোনটা কি-রি-রি করে উঠল। ফোন ধরল সৌরভ। তাকে বললাম, ‘পাস জমা নিয়েছে। আমাদের আর শোরে যাওয়া হচ্ছে না’।

শুনে সে চমকে ওঠে। বলে, ‘ কি? সব ভাগছে?’

বললাম, ‘মনে হয় তাই’।

‘তুই নিচে আয়,’ বলে ফোন রেখে দিল সৌরভ। দেখলাম মন্দ হয় না নিচে গেলে। খিদে পেয়েছে, ডিম রুটি খাওয়া যাবে ওখানে। কফিও আছে। তাড়াতাড়ি নিচে নামি।

নিচে নেমে আগে টোস্ট বানাতে দিই। সৌরভকে খুলে বলি সব। শুনে সে বলে, ‘এখন কী হবে? একবারে সাতজন নেমে গেল জাহাজ থেকে, দেশে ফিরতে পারব তো?’

ওর মতো অতটা উদ্বিগ্ন হই না আমি। আমার শুধু চিন্তা হয় এখন আমার ওয়াচে গ্রিজার থাকবে না। একা একাই করতে হবে সব কাজ। টোস্ট কফি খেতে খেতে অনেক কথা হলো সৌরভের সাথে।

পরদিন সকালে উঠে দেখি ইমিগ্রেশনের লোক এসেছে। কাগজপত্র সব বুঝে নিচ্ছে ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে। গ্যাংওয়েতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ নামতে পারবে না জাহাজ থেকে। সারা জাহাজ জুড়ে কেমন কেন শূণ্যতা। সবাই চুপচাপ। লরী আসার শব্দে আর কেউ দৌড়াচ্ছে না।

লাঞ্চের সময় ক্রু অফিসার সবাইকে ডাকলেন ক্যাপ্টেন। সবাই বোটডেকে দাঁড়ালাম। ক্যাপ্টেন বললেন, ‘একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আমাদের সাতজন ক্রু পালিয়ে গেছে জাহাজ থেকে। এমন অবস্থায় আমরা যারা আছি তাদের উপরই সমস্ত দায়িত্ব। তাই সবার প্রতি অনুরোধ রইবে, আপনার সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। অনেককে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হবে। … আমরা কয়েক ঘন্টা পরই যাত্রা করব; যাব বাংলাদেশে। আমাদের যাত্রা শুভ হোক!’

দেশের কথা শুনে মনটা নেচে উঠল। সত্যিই আমরা দেশে ফিরছি! কেবিনে ফিরে একটা চিঠি লিখলাম। সেটি দিলাম রেডিও অফিসারকে। উনিই ব্যবস্থা করবেন ডাকে দেযার।

সন্ধ্যায় জাহাজ সেইল করল। পেছনে পড়ে রইল অদেখা ইয়োকোহামা।

[১৯৯৭ সালে রহস্যপত্রিকায় প্রকাশিত]

Series Navigationমিজোশিমা-কাকাগাওয়া >>

Leave a Reply

%d bloggers like this: