ব্যাঙকে খাও চুমু!

আপনি এই পৃথিবীতে কেন? আপনি এখানে এসেছেন মহত্তম কিছু করার জন্য, সুখ ও প্রাচুর্যের মাঝে বাস করার জন্য, সুন্দর কিছু সম্পর্ক নিয়ে বাঁচার জন্য, সুন্দর স্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, আর জীবনের পূর্ণতা পাওয়ার জন্য। তাহলে আপনি আপনার এই স্বপ্নের জীবন যাপন করছেন না কেন?

আপনি যদি আপনার সুখ কিংবা অসুখ, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা, বিজয় কিংবা পরাজয় এর কারণ জানতে চান তাহলে আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকান। আয়নায় আপনি যে মুখটি দেখতে পাচ্ছেন তার সম্পর্কে আপনার চিন্তার মানই নির্ধারণ করবে আপনার জীবনের মান। আপনি যদি নিজের সম্পর্কে চিন্তাকে বদলান তাহলেই বদলাতে পারবেন নিজের জীবন – প্রায় সাথে সাথে। 

একটি রূপকথা

অনেকেই জানেন সেই রূপকথা। কোনো এক সময় এক রাজপুত্র এক কুৎসিত ব্যাঙে পরিণত হয়েছিলেন, এক হিংসুক ডাইনির যাদুতে। তার এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল যদি কোনো রাজকন্যা তাকে চুম্বন করে। আর সেই ডাইনি নিশ্চিত ছিল যে এটি কখনই ঘটবে না; কারণ কোনো কুৎসিত ব্যাঙকে কোনো রাজকন্যা কবেই বা চুমু খেয়েছে, বলুন?

সেই একই সময়ে এক সুন্দরী রাজকন্যা এক সুদর্শন রাজপুত্র খুঁজছিলেন বিয়ে করার জন্য; কিন্তু তখনও কোনো সুদর্শন রাজপুত্র দেখা দেয়নি তার জীবনে। একদিন সে লেকের ধারে একাকী হাঁটছিল। হাঁটতে হাঁটতে সেই লেকের পাশে এক কুৎসিত ব্যাঙ দেখতে পেল। রাজকন্যা বসল সেই পানির ধারে, চিন্তা করল তার কাঙ্ক্ষিত রাজপুত্রের; আর তখনই ব্যাঙ লাফ দিয়ে তার সামনে এল এবং কথা বলে উঠল।

ব্যাঙ বলল যে সে আসলে এক সুদর্শন রাজপুত্র, রাজকন্যা যদি থাকে চুমু খায় তবেই সে আবার রাজপুত্রে পরিণত হবে। আর রাজপুত্রে পরিণত হলে সে রাজকন্যাকে বিয়ে করবে, ভালবাসবে সারাজীবন।

এমন কথা পিলে চমকানোর মতোই! রাজকন্যার অনিচ্ছা প্রবল একটি ব্যাঙকে চুমু খেতে, তবে ইচ্ছেটাও প্রবল এক রাজপুত্রকে পাওয়ার। তাই সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে রাজকন্যা সেই ব্যাঙের ঠোঁটে চুমু খেয়েই বসল!

আর তখনই ঘটল সেই ম্যাজিক। ব্যাঙ পরিণত হলো সুদর্শন রাজপুত্রে। রাজপুত্র তার কথা রাখল, রাজকন্যাকে বিয়ে করল এবং সুখে শান্তিতে জীবন কাটাতে লাগল।

গল্পের সারকথা

এই গল্পতো বহুবার শুনেছেন? কিন্তু এটি থেকে কোনো নীতিকথা বের করার চেষ্টা করেছেন কি। আসুন না দেখি নিচেরটি কেমন মানায় এই গল্পের সাথে।

প্রায় প্রতিটি মানুষের কোনো না কোনো একটি বাধা থাকে যা তাকে সুখী, সফল ও স্বপ্নের জীবন যাপন থেকে বিরত রাখে। এটি হতে পারে কোনো অভিমান, ক্রোধ, রাগ কিংবা অন্য কিছু।

আপনার জীবনে এই কুৎসিত ব্যাঙ কোনটি যা আপনার স্বপ্নের জীবন থেকে আপনাকে সরিয়ে রাখছে? আপনার জীবনে কোন কোন নেতিবাচক ঘটনা ঘটছে যা থেকে আপনি মুক্তি পেতে চান?

আমরা সবাই যা চাই

মানব জীবনের বড় লক্ষ্য হলো সুখ ও মনের প্রশান্তি উপভোগ করা। প্রতিটি স্বাভাবিক ব্যক্তি ভালবাসা, আনন্দ, সন্তুষ্টি ও পরিপূর্ণতার ইতিবাচক আবেগ উপভোগ ও উপলব্ধ করতে চায়।

মনোবিজ্ঞান ও ব্যক্তি-বিকাশের গবেষণায় সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হয়তো এই যে আপনি ও আপনার কাঙ্ক্ষিত জীবনের মধ্যে বাধা হলো আপনার নিজের ও অন্যদের সম্পর্কে আপনার নেতিবাচক চিন্তা। আপনি যখন কুৎসিত ব্যাঙকে চুমু খেতে শিখবেন, প্রতিটি পরিস্থিতি ও ব্যক্তির মধ্যে ইতিবাচক কিছু দেখতে পাবেন তখনই আপনি আপনার সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সম্ভাবনাকে অবারিত করতে পারবেন।

একানে আপনি শিখবেন কিছু সহজ অথচ শক্তিশালী নিয়ম যার মাধ্যমে আপনি নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন করে প্রতিটি সমস্যাকে একটি সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে পারবেন এবং সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাফল্যের দ্বারে পৌঁছে যাবেন; এক অসাধারণ জীবনযাপনের জন্য আপনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন এবং আপনার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবেন।

লাখ লাখ লোকের জন্য এসব কৌশল কাজে লেগেছে এবং আপনার জন্যও তা কাজে লাগবে। তাই দেরি না করে আসুন শিখি কীভাবে কুৎসিত ব্যাঙকেও চুমু খাওয়া যায়!

আসলে ভাল বা মন্দ বলে কিছু নেই, কেবল চিন্তা-ই তা তৈরি করে।
উইলিয়াম শেকসপীয়র

ব্রায়ান ট্রেসি’র Kiss That Frog অবলম্বনে রচিত

Series Navigation<< আপনার সম্পর্কে সাতটি সত্যসুদর্শন রাজপুত্রকে দেখুন >>

Also published on Medium.

Leave a Reply

%d bloggers like this: