Tag Archives: কাহলিল জিবরান

আমার দু:খের জন্মের সময়

আমার দু:খের জন্ম হলে আমি তার যত্ন নিলাম, তার দিকে তাকালাম পরম মমতায়। আমার দু:খ বেড়ে উঠল অন্যান্য জীবের মতো, হয়ে উঠল শক্ত ও সুন্দর, আর অদ্ভূত ভাললাগায়। আমরা একে অপরকে ভালবাসলাম, আমার দু:খ আর আমি, আমাদের চারপাশের সবকিছুকে একসাথে ভালবাসলাম; আমার প্রতি দু:খের মমতা, আমার দু:খের প্রতি আমার মমতার কমতি ছিল না। এবং আমরা যখন পরস্পরের সাথে কথা বলতাম তখন আমাদের দিন ও রাত্রি ভরে উঠত অদ্ভুত স্বপ্নে; আমার দু:খের ছিল এক বাক্যবাগীশ জিহ্বা, আর আমারও তেমনি ছিল দু:খের প্রতি। আর আমরা যখন একসাথে গান গাইলাম, আমার দু:খ ও আমি, আমার প্রতিবেশিরা জানালার পাশে বসে শুনল সেই গান; কারণ […]

কাকতাড়ুয়া / কাহলিল জিবরান

একদিন এক কাকতাড়ুয়াকে বললাম, “এই একাকী প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকতে নিশ্চয় তুমি ক্লান্ত হয়ে গেছ।” কাকতাড়ুয়া বলল, “অন্যকে ভয় দেখানোর আনন্দ অনেক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী, তাই আমি এটি করতে ক্লান্ত হই না।” এক মিনিট চিন্তা করে বললাম, “সত্য বটে, আমিও পেয়েছি এই আনন্দ।” সে বলল, “তাদের অভ্যন্তরে গাদা আছে খড় তারাই শুধু বুঝতে পারে এটা।” সে আমার প্রশংসা করল নাকি বিদ্রুপ সেটি বুঝতে না পেরে আমি চলে আসলাম। এক বছর চলে গেছে, এর মধ্যে কাকতাড়ুয়া পরিণত হয়েছে দার্শনিকে। এবার আবার যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তখন দেখি দুটি কাক বাসা বেঁধেছে তার টুপির নিচে।

জ্যোতির্বিদ / কাহলিল জিবরান

মন্দিরের ছায়ায় আমি ও আমার বন্ধু দেখতে পেলাম এক অন্ধকে, বসে আছে নির্জনে। বললেন বন্ধুটি, “এই দ্যাখো, সবচেয়ে বিজ্ঞ লোক আমাদের এই ভূমিতে।” বন্ধুটিকে ছেড়ে আমি গেলাম সেই অন্ধের কাছে, করলাম সম্ভাষণ। তারপর চলল কিছু কথাবার্তা। কিছুক্ষণ পরে জিজ্ঞেস করলাম, “মাফ করবেন, বলবেন কি আপনি অন্ধ ঠিক কখন থেকে?” “জন্ম থেকে,” বললেন তিনি। বললাম আমি, “জ্ঞানের কোন পথ আপনি করেছেন অনুসরণ?” বললেন তিনি, “আমি একজন জ্যোতির্বিদ।” এরপর তিনি তাঁর হাতটি নিয়ে গেলেন বুকে, ইশারায় হৃদয় দেখিয়ে বললেন, “সূর্য, চন্দ্র আর নক্ষত্র সব আমি দেখি এইখানে।”

পাগল / কাহলিল জিবরান

তোমরা জানতে চাও আমি কীভাবে পাগল হলাম। ঘটনাটি এই: একদিন, অনেক দেবতার জন্মের আগে, আমি জেগে উঠি এক গভীর নিদ্রা থেকে, আর দেখি আমার সব মুখোশ চুরি হয়ে গেছে – সাতটি মুখোশ যা আমি পরিধান করেছি সাতটি জীবনে, তাই চিৎকার করতে করতে মুখোশহীন আমি ছুটে চললাম জনাকীর্ন সড়কে, “চোর, সব চোর, সব অভিশপ্ত চোর”। নর ও নারীরা আমাকে পরিহাস করল, আর কেউ কেউ ভয়ে পেয়ে ঢুকে গেল তাদের বাড়িতে। তারপর আমি পৌঁছে গেলাম এক বাজারে, ছাদের উপরে দাঁড়ানো এক যুবক চিৎকার করে বলল, “ও একটা পাগল”। আমি উপরে তাকালাম তাকে দেখতে; আর প্রথমবার সূর্য চুম্বন করল আমার নগ্ন মুখমন্ডল। প্রথমবার […]