Tag Archives: দর্শন

অভিপ্রায়

আপনার সকল প্রচেষ্টাকে একটা কিছুর দিকে ধাবিত করুন, কোথায় যেতে চান সেটির দিকে দৃষ্টি দিন। কাজ আসলে মানুষকে বিরক্ত করে না, কিন্তু উদ্দেশ্যবিহীন কাজই মানুষকে পাগল করে তোলে। সেনেকা, মনের প্রশান্তি প্রসঙ্গে কোথায় যাবেন তা যদি না জানেন তাহলে আপনি যেকোনো স্থানে যেতে পারেন, অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো স্থানে। নদীতে নৌকা ছেড়ে দিয়ে চুপ করে ভেসে যেতে দিলে স্রোতের টানে সেটি কোথাও না কোথাও যাবে। তেমনি আপনার কাজের উদ্দেশ্য না থাকলে সেটি কিছু একটা করবে হয়ত, কিন্তু সেটি আপনার কোনো উপকারে আসবে কি না বলা যায় না। অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর চেশায়ার ক্যাট মধ্যকার অ্যালিসের সেই বিখ্যাত কথোপকথনটা স্মরণ করা যেতে পারে। অ্যালিস: […]

কাকতাড়ুয়া / কাহলিল জিবরান

একদিন এক কাকতাড়ুয়াকে বললাম, “এই একাকী প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকতে নিশ্চয় তুমি ক্লান্ত হয়ে গেছ।” কাকতাড়ুয়া বলল, “অন্যকে ভয় দেখানোর আনন্দ অনেক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী, তাই আমি এটি করতে ক্লান্ত হই না।” এক মিনিট চিন্তা করে বললাম, “সত্য বটে, আমিও পেয়েছি এই আনন্দ।” সে বলল, “তাদের অভ্যন্তরে গাদা আছে খড় তারাই শুধু বুঝতে পারে এটা।” সে আমার প্রশংসা করল নাকি বিদ্রুপ সেটি বুঝতে না পেরে আমি চলে আসলাম। এক বছর চলে গেছে, এর মধ্যে কাকতাড়ুয়া পরিণত হয়েছে দার্শনিকে। এবার আবার যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তখন দেখি দুটি কাক বাসা বেঁধেছে তার টুপির নিচে।

জ্যোতির্বিদ / কাহলিল জিবরান

মন্দিরের ছায়ায় আমি ও আমার বন্ধু দেখতে পেলাম এক অন্ধকে, বসে আছে নির্জনে। বললেন বন্ধুটি, “এই দ্যাখো, সবচেয়ে বিজ্ঞ লোক আমাদের এই ভূমিতে।” বন্ধুটিকে ছেড়ে আমি গেলাম সেই অন্ধের কাছে, করলাম সম্ভাষণ। তারপর চলল কিছু কথাবার্তা। কিছুক্ষণ পরে জিজ্ঞেস করলাম, “মাফ করবেন, বলবেন কি আপনি অন্ধ ঠিক কখন থেকে?” “জন্ম থেকে,” বললেন তিনি। বললাম আমি, “জ্ঞানের কোন পথ আপনি করেছেন অনুসরণ?” বললেন তিনি, “আমি একজন জ্যোতির্বিদ।” এরপর তিনি তাঁর হাতটি নিয়ে গেলেন বুকে, ইশারায় হৃদয় দেখিয়ে বললেন, “সূর্য, চন্দ্র আর নক্ষত্র সব আমি দেখি এইখানে।”

পাগল / কাহলিল জিবরান

তোমরা জানতে চাও আমি কীভাবে পাগল হলাম। ঘটনাটি এই: একদিন, অনেক দেবতার জন্মের আগে, আমি জেগে উঠি এক গভীর নিদ্রা থেকে, আর দেখি আমার সব মুখোশ চুরি হয়ে গেছে – সাতটি মুখোশ যা আমি পরিধান করেছি সাতটি জীবনে, তাই চিৎকার করতে করতে মুখোশহীন আমি ছুটে চললাম জনাকীর্ন সড়কে, “চোর, সব চোর, সব অভিশপ্ত চোর”। নর ও নারীরা আমাকে পরিহাস করল, আর কেউ কেউ ভয়ে পেয়ে ঢুকে গেল তাদের বাড়িতে। তারপর আমি পৌঁছে গেলাম এক বাজারে, ছাদের উপরে দাঁড়ানো এক যুবক চিৎকার করে বলল, “ও একটা পাগল”। আমি উপরে তাকালাম তাকে দেখতে; আর প্রথমবার সূর্য চুম্বন করল আমার নগ্ন মুখমন্ডল। প্রথমবার […]