আমার দু:খের জন্মের সময়

আমার দু:খের জন্ম হলে আমি তার যত্ন নিলাম, তার দিকে তাকালাম পরম মমতায়।

আমার দু:খ বেড়ে উঠল অন্যান্য জীবের মতো, হয়ে উঠল শক্ত ও সুন্দর, আর অদ্ভূত ভাললাগায়।

আমরা একে অপরকে ভালবাসলাম, আমার দু:খ আর আমি, আমাদের চারপাশের সবকিছুকে একসাথে ভালবাসলাম; আমার প্রতি দু:খের মমতা, আমার দু:খের প্রতি আমার মমতার কমতি ছিল না।

এবং আমরা যখন পরস্পরের সাথে কথা বলতাম তখন আমাদের দিন ও রাত্রি ভরে উঠত অদ্ভুত স্বপ্নে; আমার দু:খের ছিল এক বাক্যবাগীশ জিহ্বা, আর আমারও তেমনি ছিল দু:খের প্রতি।

আর আমরা যখন একসাথে গান গাইলাম, আমার দু:খ ও আমি, আমার প্রতিবেশিরা জানালার পাশে বসে শুনল সেই গান; কারণ আমাদের এই গান ছিল সমুদ্রের মতো গভীর আর সুর ছিল অসামান্য স্মৃতিময়।

আর আমরা যখন একসাথে হাঁটতাম, আমার দু:খ ও আমি, লোকজন তাকাত করুণভাবে, মমতায়, আর মধুর স্বরে ফিসফিস করত নিজেরাই। কেউ কেউ হিংসে করত, মনে হতো দু:খ এক মহান জিনিস, আর আমি গর্বিত এই দু:খকে পেয়ে।

কিন্তু একদিন আমার দু:খ গেল মরে, সকল জীব যেমন মরে; আমি একা নিস্তব্ধ, নিথর – চিন্তায় লীন রইলাম পড়ে।

এখন আমি কথা বলতে গেলেই শব্দগুলো ভারী পাথরের মতো চাপা দেয় আমাকেই।

আর যখন গান গাই, প্রতিবেশিরা আসে না শুনতে তা মোটেও।

যখন হাঁটি রাস্তায়, তাকায় না কেউ আমার দিকে।

ঘুমের মধ্যে কেবল শুনি, কেউ কেউ করুণা করে বলছে, “ওই দ্যাখো, সেই লোক, যার দু:খ গেছে মরে।”

Series Navigation<< কাকতাড়ুয়া / কাহলিল জিবরান

Leave a Reply

%d bloggers like this: