চেহারা নাকি চিন্তা – কোনটি বদলানো দরকার?

সাইকো-সাইবারনেটিক্স গ্রন্থের লেখক ম্যাক্সওয়েল মাল্টজ একজন প্লাস্টিক সার্জন। প্লাস্টিক সার্জারির আদিযুগে তিনি শত শত রোগীর প্লাস্টিক সার্জারি করেছেন; তাদের চেহারা বদলে দিয়েছেন – লাজুক চেহারাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন, বোঁচা নাককে খাড়া করে দিয়েছেন, কুৎসিত চেহারাকে সুন্দর করে তুলেছেন। এসব নূতন চেহারা পাওয়ার পর অনেকের ব্যক্তিত্বই বদলে গেছে। তবে তিনি এও লক্ষ্য করেছেন যে প্লাস্টিক সার্জারি করার পরও অনেকের ব্যক্তিত্ব আগের মতোই রয়ে গেছে।

যারা নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্ট নন – যেমন বোঁচা নাক, কুৎসিত মুখমন্ডল, দুর্ঘটনায় নষ্ট হয়ে যাওয়া চেহারা – তারাই মূলত প্লাস্টিক সার্জারি করতে আসতেন। ড. ম্যাক্সওয়েল অনুসন্ধান চালিয়ে লক্ষ্য করলেন যে যারা কেবল বাইরের চেহারা নিয়েই অসন্তুষ্ট ছিলেন কেবল তারাই ব্যক্তিত্ব বদলাতে পেরেছেন, হীনমন্যতা বাদ দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এর বাইরে আরেকদল আছেন যাদের বাহ্যিক চেহারায় পরিবর্তন আনার পরও তাদের ব্যক্তিত্বে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা সার্জারির আগে থেকেই মনের মধ্যে নিজেকে যেভাবে দেখেছেন সেভাবেই দেখে চলেছেন; বাহ্যিক চেহারার পরিবর্তন তাদের ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি কিংবা আচরণে পরিবর্তন আনতে পারেনি। তখন থেকেই ড. ম্যাক্সওয়েল আগ্রহী হলেন মনোবিজ্ঞানে; বোঝার চেষ্টা করলেন এই নিজেকে দেখার প্রক্রিয়া। একসময় বুঝতে পারলেন মানুষ নিজের সম্পর্কে যা ভাবে, নিজেকে যেভাবে দেখে, তাই প্রতিফলিত হয় তার আচরণে, তার ব্যক্তিত্বে। নিজেকে দেখার এই প্রক্রিয়া বদলানো প্লাস্টিক সার্জারির চেয়েও জরুরি।

২.
ড. ম্যাক্সওয়েল আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলেন। আমেরিকায় অনেকেই মুখে আঘাতের চিহ্নকে দূর করার জন্য প্লাস্টিক সার্জারির আশ্রয় নেন। কিন্তু জার্মানিতে কেউ কেউ এই আঘাতের চিহ্নকে বয়ে বেড়াতে গর্ব বোধ করেন। কারণ দ্বন্দ্বযুদ্ধে অংশ নেয়ার চিহ্ন এটি – এই চিহ্ন তাদের জন্য মেডাল স্বরূপ; জিতুক আর হারুক দ্বন্দযুদ্ধে অংশ নেয়া মানেই আপনি অভিজাত শ্রেণীর। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে, এই দাগ আসলে কিছু নয়; যার মুখে এই দাগ আছে সেই দাগকে সে কীভাবে দেখছে সেটিই নির্ধারণ করে তার আচরণ। প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কোথাও তাকে ছুরি হাতে নিতে হচ্ছে এই দাগ দূর করার জন্য, আবার কোথাও বা সেই একই ছুরি দিয়ে দাগ তৈরি করতে হচ্ছে। এর কারণ কোথাও এই দাগকে অবমাননাকর, আর কোথাও বা এটিকে গৌরবের মনে করা হচ্ছে।

৩.
প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে ড. ম্যাক্সওয়েল অনেকেরই প্লাস্টিক সার্জারি করেছেন, এদের মধ্যে আছে যারা দুর্ঘটনায় কোনো অঙ্গ হারিয়েছেন, যাদের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে এমন মানুষ; আবার এমন এক দলও আছে যারা নিজেদের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্ট না। তাদের মতে তাদের ঠোঁটটা আরেকটু পুরো হলে ভালো হতো; নাকটা আরেকটু উঁচু করতে হবে, স্তন আরো বড় হলে ভালো হতে, ইত্যাদি নানারকম ধারণার লোক ছিল। তাদের মধ্যে এই বিভিন্ন অঙ্গের ছোট বড়’র ধারণাটি আসত সেই সময়ের জনপ্রিয় মুভি স্টারের সাথে তুলনা করে।

ড. ম্যাক্সওয়েল জানাচ্ছেন, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ নিজেদের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট কিংবা খুঁতখুঁতে। এই সমীক্ষার ফল থেকে কি বলা যায় যে আমাদের মধ্যকার শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই খুঁতযুক্ত কিংবা অস্বাভাবিক। না, তা মোটেই না। এটা তাদের মানসিক হীনমন্যতার প্রকাশ – তারা নিজেকে ফিল্মস্টারের সাথে তুলনা না করে আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের সাথে তুলনা করলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে। সেটি তাদেরকে নিজের চিত্র দেখতে সাহায্য করবে। তাদের মনে যে এই অসন্তুষ্টি এটি দূর করা সম্ভব কোনো প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়াই।

৪.
এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক আবিষ্কার হলো এই যে আমরা নিজেদের সম্পর্কে যা ভাবি আমরা আসলে তাই। আমরা প্রত্যেকে নিজেকে একটি বিশেষভাবে দেখি – আমি কে, আমি কী করি বা কী করতে পারি সে সম্পর্কে এক চিত্র আমাদের মনের মধ্যে গাঁথা আছে। এটা আসলে আমাদের ব্লুপ্রিন্ট – এই ব্লুপ্রিন্ট অনুসারেই আমরা চলি। এই ব্লুপ্রিন্টে আমরা আমাদের বিশ্বাসসমূহকে গেঁথে ফেলি; এই ব্লুপ্রিন্টে আমরা বলে দিই কী করতে পারি আর কী করতে পারি না – আমরা আমাদের সীমানা নির্ধারণ করে দিই। বাস্তবে এই ব্লুপ্রিন্টের কথা সচেতনভাবে আমরা মনে করি না; কিন্তু আমাদের অবচেতন মনে গাঁথা থাকে এই চিত্র। এটিই আমাদের চালিত করে।

দু:খের বিষয় হলো আমাদের চারপাশে – বিশেষ করে আমরা বাঙালিরা – এই ব্লুপ্রিন্টকে এমনভাবেই বানাই যাতে আমরা সফল হতে না পারি। আপনার আশেপাশের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করুন, কেমন আছেন? এরপর লক্ষ্য করুন তাদের উত্তরের ধরন। তাদের বেশিরভাগ বলবে, ‘আমাদের আর থাকা! এই চলে যাচ্ছে’। তাদের কথায় বুঝতে পারবেন যে তারা নিশ্চিত তাদের ভাল থাকতে মানা, যেহেতু ভাল থাকতে মানা তাই তারা সবসময় ‘মোটামুটি’ থাকেন।

৫.
আমাদের সকল কাজ, অনুভূতি, আচরণ – এমনকি আমাদের সামর্থ্য এই চিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সোজা কথায় বলতে গেলে আপনি নিজেকে যা ভাববেন আপনি কাজও করবেন তেমনি। আপনি নিজেকে যেভাবে দেখবেন তার বাইরে যেতে পারবেন না – চেষ্টা করলেও না; মাঝে মাঝে ভাল চিন্তা করবেন – সফল হতে চাইবেন – কিন্তু দেখবেন কে যেন পেছন থেকে আপনাকে আটকে রাখছে। পেছনের এই ব্যক্তি হলো আপনার ছায়া, আপনার চিত্র যা আপনি মনে মনে এঁকেছেন। আপনি যদি নিজেকে ব্যর্থ, অকর্মার ঢেঁকি ভাবেন তাহলে দেখবেন আপনি ব্যর্থ হচ্ছেন – সফল হওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু কেমন করে যেন সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। আপনার জীবনটা হবে তখন আগের দিনের বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের মতো – মনে আছে সেই কথা – প্রতিটি খেলাই বাংলাদেশ টীম ভাল খেলত কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেমন করে যেন হেরে যেত।

আপনি নিজের যে চিত্র দেখছেন সেটি হলো ভিত্তি যার উপর গড়ে ওঠে আপনার ব্যক্তিত্ব, আপনার আচরণ, এমনকি আপনার চারপাশের পরিস্থিতি। আর তাই আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের নিজের সম্পর্কে আঁকা চিত্রকে শক্তিশালী করে তোলে – সেটি ভালও হতে পারে, আবার মন্দও হতে পারে। যেমন কোনো ছাত্র নিজেকে খুবই দুর্বল বলে ভাবে, ভাবে সে পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না। তারপর সত্যিই তার রেজাল্ট হলে দেখা যায় সে পাশ করে নি। তখন সে তার চিন্তার সপক্ষে একটি প্রমাণ পেয়ে যায়, এই প্রমাণ তার সেই চিন্তাকে আরো সুদৃঢ় করে। অনেককে তখন সে বলতেও পারে, ‘বলেছিলাম না! আমি পাশ করার যোগ্য নই!’

এই প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে বোঝানো মুশকিল হয়ে যায় যে তার চিন্তার কারণে এটি ঘটছে। ডিম আগে না মুরগি আগে এ ধরনের বিতর্কের মধ্যে সে পড়ে যায়। সেই ছাত্রকে গিয়ে বলেন যে আসলে সে যে পড়াশুনায় ভাল না, বিশেষ করে ইংরেজিতে, এটি একটি ভুল ধারণা। সে তেড়ে আসবে, সে প্রমাণ হিসেবে পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর দেখাবে।

৬.
আশার কথা হলো, নিজের সম্পর্কে ধারণা বদলানো যায়। নিজের সম্পর্কে আপনি যা ভাবেন বা নিজের চিত্র যেভাবে দেখেন তা বদলানোর জন্য কোনো বয়সই বাধা নয়, যেকোনো বয়সে, যেকোনো সময়ে এটি করতে পারেন।

অনেকেই বদলাতে চান, কিন্তু ব্যর্থ হোন। অনেককেই বলতে শুনেছি আমি নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেছি; অনেকের অনেক ভাল কথা শুনি, সব পরিস্থিতিতে ইতিবাচক চিন্তার কথা বলেন – কিন্তু বাস্তবে সেটি কাজে লাগানো কঠিন। অনেকেই অভিযোগ করেন, আপনারা ইতিবাচক চিন্তার কথা বলেন – কিন্তু আমি চেষ্টা করে দেখেছি সেটি কাজে লাগেনি। একটু প্রশ্ন করে বোঝার চেষ্টা করলে হয়ত দেখতে পাবেন তারা এই ইতিবাচক চিন্তা করেছেন বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন আমি এই চাকরিটা পাব, আমি আজ খেলায় জিতব, আজ আমি উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে সবার কথা শুনব, ইত্যাদি। বিশেষ পরিস্থিতিতে বা বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এরনকম ইতিবাচক চিন্তা প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা ব্যর্থ হোন, এবং আবার সেই ব্যর্থতার চিন্তার মধ্যেই ঘুরপাক খেতে থাকেন।

আসলে আপনি যদি নিজের সম্পর্কে চিন্তাটাকে বদলাতে না পারেন, নিজের যে ছবি অবচেতন মনে এঁকে রেখেছেন সেটি বদলাতে না পারেন তাহলে এ ধরনের বাহ্যিক ইতিবাচক চিন্তা কাজে লাগবে না। বদলাতে হবে ভেতর থেকে – নিজের সম্পর্কে ধারণাকে বদলাতে হবে। যখন আপনি নিজেকে একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে ভাবতে পারবেন, যেকোনো চাকরি পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করবেন, যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার যোগ্য বলে বিশ্বাস করবেন তখন আপনার এই অবচেতসন মনই নিজেকে সেই পথে চালিত করবে।

পুরনো কাপড়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো, কিংবা পুরনো বোতলে নূতন মদ ভরার ব্যাপারে যিশুখ্রিস্ট সাবধান করে দিয়েছিলেন। আপনার নিজের সম্পর্কে ধারণাকে না বদলিয়ে উপরে ইতিবাচক চিন্তার জোড়াতালি লাগালে পরিস্থিতি বদলাবে না; তাই বদলাতে হবে ভেতর থেকে। একবার নিজের সম্পর্কে আঁকা এই চিত্র বদলাতে পারলে এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে আপনি সফল হতে শুরু করবেন।

এ প্রসঙ্গে এক শিক্ষকের অভিজ্ঞতার কথা বলা যেতে পারে। শিক্ষক হিসেবে তিনি লক্ষ্য করলেন যে ছাত্ররা সেসব বিষয়েই ফেল করে যেসব বিষয়ে তারা আগ্রহ পায় না; এই আগ্রহ না পাওয়ার একটি কারণ হলো সেই বিষয়কে তারা তাদের জীবনের সাথে প্রয়োজনীয় মনে করে না। তখন সেই শিক্ষক ভেবে দেখলেন যদি কোনোক্রমে ছাত্রের মধ্যে ধারণা বদলে দেয়া যায় যে ওই বিষয়টি তার, জন্য প্রয়োজনীয় তাহলেই সে তাতে আগ্রহ পাবে এবং সফল হবে। আসলেই ব্যাপারটা তাই।

আমি নিজে প্রথম প্রথম বীজগণিতে কোনো আগ্রহ পেতাম না, এটা খুব কঠিন মনে হতো। এক্স, ওয়াই, জেড নিয়ে অঙ্ক কষে কী কাজে লাগবে? আমার শিক্ষক একদিন তা লক্ষ্য করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেন এতে আগ্রহ পাই না। আমি সরাসরি বললাম, এবিসি আর এক্সওয়াইজেড নিয়ে অঙ্ক কষে কী লাভ? তিনি সেদিন আমাকে তিরিশ মিনিট সময় দিয়েছিলেন, বুঝিয়েছিলেন পাটীগনিত নয় – এই বীজগণিত ও গণিতের অন্যান্য শাখাই বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। ইঞ্জিনিয়ারিঙে এর ব্যবহারের একটা উদাহরণ দেখালেন। তারপর আমি উপলব্ধি করলাম এটি আসলেই দরকারী এক জিনিস। এরপর থেকে বীজগণিতে আমার আগ্রহ বেড়ে গেল এবং আমি ভাল করতে থাকলাম।

আপনি যদি শিক্ষকতা পেশায় থাকেন তাহলে এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রী পাবেন যা নিজেদের সক্ষমতার ব্যাপারে সন্দিহান, তারা নিজেদের ব্যর্থ বলে ভাবে। শিক্ষক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে তাদের সেই ধারণাটা বদলিয়ে দেয়া, তাদেরকে ওই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা; তাহলেই সেই শিক্ষার্থী সফল হবে, শিক্ষক হিসেবে আপনিও সফল হবেন।

এখন কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মেয়েদের মধ্যে অদ্ভূত এক ধারণার দেখা পাই। তারা ধরেই নেয় যে কম্পিউটার আর প্রোগ্রামিং বিষয়টা ছেলেদের বিষয়, মেয়ে হিসেবে তারা এটিতে ভাল করতে পারবে না। বুঝতে পারি আমাদের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষ সম্পর্কিত অন্যান্য ধারণার মতোই এটিও তাদের মাঝে সংক্রমিত হয়েছে। এই ধারণাটিকে ভাঙা বেশ জরুরী। আমার বিশ্বাস, একবার যদি তারা ভাবতে পারে ছেলেদের মতো তারাও কোডিং পারবে – তাহলেই আমরা কিছু নারী প্রোগ্রামার পাব।

৭.
নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন করতে হলে নিজেকে জানতে হবে; নিজেকে এমনভাবে দেখতে হবে যা যৌক্তিক ও যা আপনি চান; নিজেকে যেভাবে দেখছেন তা বিশ্বাস করতে হবে; নিজের যে ছবি দেখছেন তাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আপনি যা সে হিসেবেই দেখবেন – তার বেশিও না, কমও না। একটা লেখা শেষ করার পর এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন হয়েছে? তার উত্তরটা ছিল বেশ কৌতুকপূর্ণ: ‘আপনি লিখলে যেমন হওয়ার কথা ঠিক তেমনটিই হয়েছে; তার চেয়ে ভালও না, খারাপও না’। আপনার নিজের সম্পর্কে ধারণা ঠিক এমনি হওয়া দরকার। আপনি যা তাই জানতে হবে; আপনার দূর্বলতা, আপনার শক্তি সব জানতে হবে নিজেকে। নিজের দূর্বলতা ও সবলতার হিসেব ঠিকমতো বুঝতে হবে; দূর্বলতা স্বীকার করে নিয়ে তা অতিক্রমের পথ দেখতে হবে। সবল দিকগুলোকে আরো সবল করতে হবে, সবলতার উপর ভর করে সাফল্যের পরিকল্পনা করতে হবে।

নিজের সম্পর্কে এই চিত্র যখন অক্ষত থাকে, পূর্ণ থাকে তখন আপনি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। আপনার চিত্র হুমকির মুখে পড়লে আপনি উদ্বিগ্ন হন, অনিশ্চয়তাবোধ করেন। আপনার এই চিত্র যখন পর্যাপ্ত এবং যদি তার জন্য আপনি গর্ববোধ করেন তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকে। তখন আপনি নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতে থাকেন, নিজেকে খুঁজে পান, নিজেকে প্রকাশ করতে থাকেন সৃজনশীলতায়, বিভিন্নরূপে। আপনি তখন সর্বোচ্চ স্তরে কাজ করতে থাকেন। মনের চিত্রে যে মানুষকে দেখেন তাকে যদি ভালবাসতে না পারেন, তাকে নিয়ে গর্ববোধ করতে না পারেন তাহলে নিজেকে প্রকাশ করার বদলে আপনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। আপনার সৃজনশীলতার প্রকাশ আটকে যায়, আপনি তখন নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি বিরূপ হয়ে পড়েন, তাদের সাথে চলতে পারেন না।

জার্মান দ্বন্দ্বযুদ্ধকারীদের মতো মুখে আঘাতের চিহ্নকে যদি গৌরবের বোধ করেন তাহলে আত্মবিশ্বাস ও আত্ম-শ্লাঘা বাড়ে। আর সেটিকে যদি অগৌরবের চিহ্ন হিসেবে দেখেন তাহলে আপনি আত্মবিশ্বাস হারান, আত্মশ্লাঘা অবশিষ্ট থাকে না। তাই প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে সেই ক্ষত সারানো কাজে লাগে না, অন্তরের ক্ষত সারাতে হয়।

১ মে ২০১৬

Leave a Reply

%d bloggers like this: