দৃষ্টিভঙ্গি কী?

চারপাশকে আপনি যেভাবে দেখছেন তাই হলো দৃষ্টিভঙ্গি। আমরা বিভিন্নজন একই জিনিস দেখি, কিন্তু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি ভিন্নরকম। একই জিনিস দেখে কেউ খুশি হন, কেউ বিরক্ত হন। একই রেস্টুরেন্টে গিয়ে একই খাবার খেয়ে কেউ তৃপ্ত হোন, কেউ বিরক্ত হন। এর কারণ সেই খাবারের স্বাদে নয়, সেই খাবার সম্পর্কে আমরা যা চিন্তা করছি তার মধ্যে। শেকশপীয়র বলেছেন, আসলে ভাল কিংবা মন্দ বলে কিছু নেই, আমাদের চিন্তাই তা সেরকম বানায়। তাই আপনি যদি এই চিন্তাকে বদলাতে পারেন তাহলেই সবকিছু ভাল (কিংবা মন্দ) বানাতে পারবেন। আপনার চিন্তার এই ফিল্টারই হলো দৃষ্টিভঙ্গি। চিন্তার মধ্যে এই ফিল্টার বসালে দেখবেন সবকিছুর মধ্যে ভালটি দেখতে পাচ্ছেন – মন্দগুলো ফিল্টারে আটকা পড়ে যাচ্ছে।
আপনাকে কেউ এক গ্লাস পানি দিল – আপনি সেটির দিকে তাকেত পারেন, দেখতে পারেন কতটুকু পানি আছে। আপনি যদি ইতিবাচক মানুষ হন, কৃতজ্ঞ হন তাহলে যা পেয়েছেন তাার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। ইতিবাচক চিন্তা আপনার মধ্যে থাকলে সেটিকে অর্ধেক পূর্ণ গ্লাস বলে মনে হবে। আর নেতিবাচক চিন্তার লোক হলে সেই গ্লাস অর্ধেক খালি মনে হবে, আর যে দিয়েছে তার প্রতি ক্ষোভের জন্ম হবে এই ভেবে যে সে আপনাকে পুরো দেয়নি অর্ধেক খালি দিয়েছে। দুজনের দুরকম প্রতিক্রয়ার মূলে হলো দৃষ্টিভঙ্গি – কোনো বস্তু বা ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন – ভাল নাকি মন্দ, ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক হিসেবে।

ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে:

  • নেতিবাচক চিন্তার মানুষ ভাবে ‘আমি পারব না
  • ইতিবাচক চিন্তার মানুষ ভাবে, ‘আমি পারব
  • নেতিবাচক চিন্তার মানুষ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকে
  • ইতিবাচক চিন্তার মানুষ সমাধান নিয়ে চিন্তা করে
  • নেতিবাচক চিন্তার মানুষ অন্যের দোষ ধরে, দোষারোপ করে
  • ইতিবাচক চিন্তার মানুষ অন্যদের গুণ দেখতে পায়, অন্যের প্রশংসা করে
  • নেতিবাচক চিন্তার লোক কী নেই তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকে
  • ইতিবাচক চিন্তার লোক কী আছে তা নিয়ে চিন্তা করে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকে
  • নেতিবাচক চিন্তার লোক দেখে সীমাবদ্ধতা
  • ইতিবাচক চিন্তার লোক দেখে সম্ভাবনা

এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আপনার চারপাশে একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন একই ঘটনাকে একেকজন কীভাবে দেখছে – কেউ ইতিবাচকভাবে কেউবা নেতিবাচকভাবে। এটাই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলনা করা যেতে পারে জানালার সাথে – যা দিয়ে আপনি বিশ্বকে দেখছেন। এই জানালা ইতিবাচক হলে বিশ্ব ভাল, আর নেতিবাচক হলে তা মন্দ – এরকমই বোধ হবে। তাই এই জানালাকে সাজাতে হবে ইতিবাচক হিসেবে।

Series Navigationদৃষ্টিভঙ্গি- মনের জানালা >>

Leave a Reply

%d bloggers like this: