নিয়ন্ত্রণ

জীবনের প্রধান কাজ হবে কোন কোন বিষয় তোমার অধীন নয় আর তুমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না তা চিহ্নিত করা এবং সেগুলিকে ভিন্ন করে রাখা। আর কোন কোন বিষয় তোমার নিয়ন্ত্রণে, তুমি ইচ্ছে করলেই করতে পারো তা চেনা। এটা করতে পারলে ভালো আর মন্দের পার্থক্য কোথায় খুঁজতে যাব? যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেগুলির মধ্যে নিশ্চয় নয়; যা আমার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, যা আমার পছন্দ-অপছন্দর উপর নির্ভর করে তার মধ্যেই…”

এপিকটেটাস, ডিসকোর্সেস, ২.৫.৪-৫

স্টইক দর্শনের মূল কথা হলো জীবনে এমন কিছু আছে যা তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, যা তোমার নিয়ন্ত্রণে কেবল সেগুলোই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করো, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা নিয়ন্ত্রণ করতে যেও না। আর তাই কোনটা নিয়ন্ত্রণের যোগ্য আর কোনটা নিয়ন্ত্রণের যোগ্য না সেটি নির্ধারণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ঘটনা আছে যাকে আপনি প্রভাবিত করতে পারবেন না, আবার কিছু পারবেন।

আপনি রাস্তায় বেরিয়েছেন। দেখলেন সামনে বিশাল জ্যাম। ব্যাপার কী? ট্রাফিক পুলিশ সামনে এগুতে দিচ্ছে না, কোনো এক ভিআইপি যাচ্ছেন। তখন সেই মুহূর্তে সেটি মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। কিংবা ধরুন এয়ারপোর্টে বসে আছেন। আপনার ফ্লাইট দেরি করছে। কারণ কি? কোথাও বিরূপ আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণ। তখন অপেক্ষা করে ছাড়া উপায় থাকে না। আপনি চাইলেই তখন সেই প্লেনকে এনে হাজির করতে পারবেন না।

আবার নিজের ব্যাপারে আপনার পছন্দের ব্যাপার থাকতে পারে। আপনার গায়ের রঙ শ্যামলা, সেটিকে ফরসা করতে চাওয়া বিড়ম্বনা মাত্র। আবার চাইতে পারেন কেউ আপনাকে পছন্দ করুক, ভালোবাসুক। সেটা আপনার চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, কারণ তাকে জোর করে পছন্দ করাতে পারেন না। আর যাই হোক জবরদস্তি করে প্রেম হয় না। এমন অনেক কিছুই আছে আপনি বদলাতে পারবেন না, ওগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। আবার অনেক কিছুই আছে আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনার চেষ্টা থাকবে সেসব নিয়ন্ত্রণ করার।

আপনার জীবনের পুরনো কিছু ঘটনা, যেমন শৈশবের নির্যাতন কিংবা অপ্রিয় কোনো ঘটনা, আপনি এখন বদলাতে পারবেন না। সেটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে আপনি সেটিকে প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করে কষ্ট পাবেন না এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তা পালন করতে পারেন, এটি আপনার নিয়ন্ত্রণে। আর এটি করার মাধ্যমেই আপনি ভবিষ্যৎকেও বদলাতে পারবেন।

আমারা জীবনে যে স্ট্রেসের কথা বলি সেটা আসলে আপনার সাধ্যের বাইরের কিছুকে নিয়ন্ত্রণকে করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার ফল। আপনি যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না যান, তাহলে দেখবেন কোনো স্ট্রেস থাকবে না; আপনি থাকবেন নির্ভার, নিশ্চিন্ত।

তাই আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত: “হে ঈশ্বর যা আমি পরিবর্তন করতে পারি না তা মেনে নেওয়ার তৌফিক আমাকে দাও, যা পরিবর্তন করতে পারি তা করার সাহস আমাকে দাও, আর কোনটা পরিবর্তন করতে পারি, কোনটা পারি না সেটা বোঝার ক্ষমতা আমাকে দাও।” হ্যাঁ, যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা মেনে নিতে পারলেই জীবন সহজ হবে, তবে কোনটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে আর কোনটি নিয়ন্ত্রণে সেটি বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। থাকতে হবে ইচ্ছেও।

Series Navigationনা বলুন অপ্রয়োজনীয় সবকিছুকে >>

4 comments on “নিয়ন্ত্রণ”

  1. Mohammad Kamruz Zaman বলেছেন:

    আপনার লেখা গুলো সে সময় থেকে শিক্ষণীয় যখন ছাত্র ছিলাম! তখন একটা বাংলা এডিশন বই খুঁজতাম রম্নমে হয়ে। কারন আমাদের নতুন ডিপার্টমেন্ট ছিল, কোন টিচার ছিল না নির্ধারিত অন্য ডিপার্টমেন্টের টিচাররা ক্লাস নিত। একদিকে সিলেবাস কম্পিলিট করতে হবে আর নেই কোন বই লাইব্রেরিতেও, নিউমার্কেট থেকে তখন বই আনতে যেয়ে আপনার লেখা বই পাই… সাথে আরও কিছু ইংলিশ ভার্সনের বই নিয়ে পড়ালেখার বছর গুলো শেষ করি। ছাত্র জীবনে আপনি ছিলেন সকলের এক অবিস্বরনীয় আর্শীবাদ। অনেক দিন সেভাবে আপনার লেখার খুঁজ নেইনি, নানা কারনেই। যদি আরো আগে হয়তো বিষয়টি অনুধাবন করতে পারতাম তবে জীবনের মোড় অন্য রকম হতো… যাক আপনার লেখা মতে সেটার নিয়ন্ত্রণ আমার কাছে নেই। লেখা গুলো আস্তে পড়ার চেষ্টা করছি। কাজ নেই এখন তাই সারাদিন যতটুকু ইবাদত আর পড়া লেখা করা যায় সেটাই অর্জন হয়ে থাকবে। কারো মূল্যায়ন আমাকে কতটা নিচে নিবে বা উপরে তুলবে সেটা এখন আর ভাবি না। সে জন্যই আজ অনেক ভালো আছি, অনেকে আবার কেন আমি ভালো আছি সেটা নিয়ে প্রশ্ন করে। কি আজব!!! ভালো থাকবেন…..

    1. সুহৃদ সরকার বলেছেন:

      আমার লেখা আপনার কাজে লেগেছে জেনে খুশি হলাম। একজন লেখকের পাওনা এটাই। দোয়া করবেন যেন এরকম আরো লেখা আপনাদের উপহার দিতে পারি। মাঝে মাঝে সাইটটা দেখবেন, নতুন লেখার সন্ধান পাবেন। ভালো থাকবেন।

  2. Md. Mozammal Hossain বলেছেন:

    ভালো লেগেছে।

    1. সুহৃদ সরকার বলেছেন:

      ধন্যবাদ। পাঠকের ভালো লাগলে লেখক অনুপ্রেরণা পায়।

Leave a Reply to Mohammad Kamruz Zaman Cancel reply

%d bloggers like this: