সুদর্শন রাজপুত্রকে দেখুন

রূপকথার সেই রাজকন্যার কথা মনে আছে? সেই রাজকন্যা যেমন-তেমন কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেনি; এমনকি কেবল রাজকুমারেই সন্তুষ্ট নয় সে। তার চাই সুদর্শন মনের মতো রাজপুত্র। সে এমন এক রাজপুত্রের কল্পনা করে এসেছে যে তার উপযুক্ত হবে, সবদিক দিয়েই। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কিংবা কর্মক্ষেত্রে এই সুদর্শন রাজপুত্র কিংবা রাজকন্যা-টি কেমন?

সত্যিকার সুখী ও পরিপূর্ণ মানুষ হতে হলে আপনাকে পরিষ্কারভাবে সেটিকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে: আপনি কোন মানুষের জীবন যাপন করতে চান। আপনি যদি আপনার মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তিটি হতে চান তাহলে তার কোন কোন গুণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার?

একজন পূর্ণ-কর্মক্ষম, আত্ম-নিয়ন্ত্রণকারী মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন মনোবিদরা। তারা সাধারণত সুখী, তারা নিজেদের এবং বাইরের সবার সাথে শান্তিপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী, ইতিবাচক, প্রশান্ত, তারা অনুভব করে যে তারা তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছে; তারা কৃতজ্ঞ, উদ্দীপিত, এবং জীবনকে ভীষণভাবে উপভোগ করে। এই সংজ্ঞা যদি আপনার মনে ধরে তাহলে আপনি কীভাবে সেরকম এক ব্যক্তিতে পরিণত হবেন সেই পথ দেখাবে এই বই।

যাদুর কাঠি

কল্পনা করুন আপনার হাতে এক যাদুর কাঠি আছে, এটি দিয়ে যে কোনো ইচ্ছাকে আপনি বাস্তবে পরিণত করতে পারেন। এমনি এক যাদুর কাঠি হাতে নিয়ে আপনি কল্পনা করুন আপনি কোন আদর্শ জীবন চান, অন্তত এই চারটি ক্ষেত্রে : (১) উপার্জন ও পেশা; (২) পরিবার ও সম্পর্ক; (৩) স্বাস্থ্য ও ফিটনেস; এবং (৪) আর্থিক স্বনির্ভরতা।

সফল লোকদের একটি গুণ হলো তারা ভবিষ্যৎকে প্রত্যক্ষণ করেন – একটি আদর্শ আগেই দেখতে পান। আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এরকম এক আদর্শ ভবিষ্যৎ দেখুন। আপনি সীমানা-বিহীন চিন্তার আশ্রয় নিন এজন্য।

কল্পনা করুন যে আপনার সব সময় ও অর্থ রয়েছে, সব বন্ধু ও প্রয়োজনীয় মামা-চাচা আছে, সব ধরনের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আছে এবং সকল প্রতিভা ও সক্ষমতা আপনার আছে – যার মাধ্যমে আপনি যেকোন কিছু হতে, করতে কিংবা পেতে পারেন। যদি এটিই আপনার অবস্থা হয় তাহলে আপনি আপনার জীবন নিয়ে কী করতে চান?

যখন আপনি যাদুর কাঠির সমন্বয়ে এরকম সীমানা-বিহীন চিন্তায় আদর্শ জীবনের ছবি দেখেন তখন প্রাত্যহিক জীবনের কাজের আওতা থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। আপনি এমন এক চিন্তা করেন যাকে বলা যায় সুনীল-আকাশ চিন্তা, যা সফলতম ব্যক্তিদের চিন্তার পদ্ধতি।

নকশা আঁকুন নিখুঁত ভবিষ্যতের

ব্যাক টু দ্য ফিউচার মুভি দেখেছেন? আপনাকে যদি এখন টাইম মেশিনে ভ্রমন করে অতীতে কিংবা ভবিষ্যতে চলে যেতে বলা হয়, পারবেন করতে? খুবই সহজ, কল্পনা করলেই চলবে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ভবিষ্যতে চলে যান, সেখান থেকে দেখুন আজকের আপনাকে। তারপর নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখুন:

১. পাঁচ বছর আপনার চাকরি, ব্যবসা কিংবা পেশা যদি ঠিক থাকে, তাহলে এটি দেখতে কেমন হবে? আপনি কত উপার্জন করবেন? আজকের অবস্থান থেকে আপনার সেদিনের অবস্থার কোন কোন পরিবর্তন আসবে?
কেন আপনি সেই জীবন যাপন করছেন না আর সেই পেশা ও উপার্জন এখনই উপভোগ করছেন না?

২. পাঁচ বছর আপনার পরিবার ও সম্পর্ক, আপনার আবাসস্থল ও লাইফস্টাইল নিখুঁত থাকে তাহলে সেটি কেমন দেখাবে? আজকের থেকে সেগুলি কোন কোন দিক দিয়ে ভিন্ন? এই আদর্শ পারিবারিক জীবন তৈরিতে আজকেই আপনি কোন কাজটি শুরু করতে পারেন?

৩. আপনার স্বাস্থ্য ও ফিটনেস যদি পাঁচ বছরে নিখুঁত হয় তাহলে সেটি কেমন দেখাবে? আপনার ওজন কত হবে? প্রতিদিন কত সময় ব্যায়াম করবেন, প্রতি সপ্তাহে কত? কোন কোন খাবার খাবেন? শারীরিকভাবে আপনি আজকের থেকে কোন কোন দিক দিয়ে ভিন্ন?

এই নিখুঁত স্বাস্থ্য ও ফিটনেস উপভোগ করার জন্য আপনি আজ থেকেই কী কী করা কিংবা না করা শুরু করতে পারেন?

৪. সবশেষে, যদি পাঁচ বছরে আপনার আর্থিক অবস্থা নিখুঁত হয় তাহলে আপনার কত অর্থ থাকবে? ব্যাঙ্কে কত থাকবে, আপনার বিনিয়োগ থেকে কত কামাই করবেন – প্রতি মাসে, প্রতি বছরে?

এই অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য আজই কী শুরু করতে পারেন?

আপনার নিখুঁত দিনের পরিকল্পনা করুন

টাইম মেশিনে গিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করলেন। এখন অতদূরে যেতে হবে না। কেবল একটি দিন নিয়ে কাজ করুন। ধরুন, আজকে আপনি একটি মনের মতো দিন কাটাবেন। আপনার এই মনের মতো দিনটি কেমন হবে? দেখতে পাচ্ছেন কি? এই মনের মতো দিনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করেছেন কি? যেমন আপনি কল্পনা করছেন আজ সারাদিন শুয়ে কাটাবেন (অনেকেরই মনের মতো দিন হতে পারে এটি!)। কিন্তু আপনার চাকরি আছে, পারিবারিক দায়িত্ব আছে, স্ত্রী/স্বামীর প্রতি কিছু কর্তব্য আছে, পকেটের অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে। এসবকিছু বিবেচনা করে আপনি ঠিক করতে পারেন আপনার আদর্শ দিনটি কেমন হবে।

তবে আপনার আদর্শ দিনটি কল্পনা করার জন্য আপনাকে পুরো স্বাধীনতা দিলাম। আপনি কল্পনায় দেখুন সেই দিন। তারপর বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে কিছু আপোস করুন এবং সেভাবেই দিনটা কাটানোর ব্যবস্থা করুন।

একেকটি দিনে আমরা যা করি আসলে তাই আমাদের ভবিষ্যৎকে গড়ে। আপনি যে সুখী ভবিষ্যতের কথা ভাবছেন তাও এই আজকের দিনের মাধ্যমেই।

এখুনি করুন
বড় স্বপ্ন দেখুন। আপনি যে আদর্শ ব্যক্তি হতে চান তাকে সংজ্ঞায়িত করুন, আপনি যে জীবন যাপন করতে চান সেটিকে দেখুন।

কল্পনা করুন যে আপনার কাছে যাদুর কাঠি আছে যা দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার, পারিবারিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, আর্থিক অবস্থা সবকিছুকে নিখুঁত করতে পারেন। তাহলে আপনি এসবকে কীভাবে নিখুঁত বানাবেন?

সীমানা-হীন চিন্তার অনুশীলন করুন। প্রতিদিনের শতেক বাধাকে উপেক্ষা করে মুক্ত আকাশের মতো স্বাধীনভাবে চিন্তা করুন, দেখুন কেমন জীবন আপনি চান।

কোনটি সম্ভব তা ভাবার আগে ভাবুন কোনটি আদর্শ।

আপনার আদর্শ ভবিষ্যতের নকশা আঁকুন যাতে আপনি আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।
একটি লক্ষ্য স্থির করুন, যা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্জন করতে পারলে আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।

আপনার আদর্শ জীবন শুরু করার জন্য এখুনি একটি কাজ করার সংকল্প করুন।

 

ব্রায়ান ট্রেসির Kiss That Frog অবলম্বনে রচিত

Series Navigation<< ব্যাঙকে খাও চুমু!

Leave a Reply

%d bloggers like this: