১৩ জুলাই ২০১৮

মাঝে মাঝে ভালো না লাগা ভর করে। এটি হয় যখন কিছুই করার থাকে না, কোনো তাড়া থাকে না। এমন কিছু কাজ আছে যা পরে করলেও চলে, করার কোনো তাড়া থাকে না, পুরোটাই অপশনাল, না করলেও চলে। এরকম কাজের ক্ষেত্রেই আলস্য ভর করে। বিষণ্নতা এসে দেখা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ কাজ, জরুরী কোনো কাজ থাকলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। তখন মন খারাপের আর সময় থাকে না।

হতে পারে এটা একটা ভুল ধারনা, কিংবা মনকে কোনোকিছুর উপর নির্ভরশীল করে তোলা। কোনো কাজের উপর কেন নিজের গুরুত্ব নির্ভর করবে? এমনওতো ভাবা যায় যে আমি এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ, কিছু করি আর নাই করি, কারো কাজে লাগি বা না লাগি। আমি আমার মতো এবং এতেই আমার গুরুত্ব; আমি যা করতে চাচ্ছি, তাই করছি, যা করতে চাইছি তা করতে পারছি – তাহলেই তো সুখী বোধ করা যায়।

সারা সকাল Chimp Paradox বইটি পড়লাম। দুপুরের দিকে চোখে ঘুম এমনভাবে ভর করল যে শত চেষ্টাতেও চোখ খোলা রাখতে পারলাম না। আড়াইটার দিকে লাঞ্চ সেরে কফি শেষ করলাম। তারপর পৌনে চারটার দিকে মা-মেয়েকে নিয়ে রওনা দিলাম। একাডেমিয়া কোচিঙের সামনে তাদের নামিয়ে দিলাম। তারপর হঠাৎ করেই মনে হলো সাতাশ নম্বর রোডে যাই, বই বিচিত্রায় নোটপ্যাড পাওয়া যায় কি না দেখি। কয়েকদিন থেকে কেন যেন মনে হচ্ছে সবসময় কম্পিউটারে লেখা যাবে না – তাই কোনো বই পড়ার সময় সাথে নোটপ্যাড রাখব, তাতেই লিখব। তারপর সেগুলিকে কম্পিউটারে নেয়া যায়। বই বিচিত্রায় সেরকম নোটপ্যাড খুঁজলাম, পেলাম না। অনেক নোটবই আছে, সুন্দর সুন্দর। কিন্তু এরকম নোটবই আমার আছে – আগে সেগুলি লিখে শেষ করি। তারপর আবার নতুন কেনা যাবে। রেঙ্গুন থেকে মিনিসোর কিছু নোটবুক এনেছি, রঙিন – সেগুলিতেও লিখতে হবে।

বইয়ের অংশে দেখলাম। বেশ কিছু নতুন বই আছে – কিন্তু কোনোটাই নিলাম না। এমনিতেই অনেক বই জমা হয়ে গেছে। আগে সেগুলি পড়ে শেষ করি। তারপর নতুন বই কেনা যাবে। বই কেনা এখন কোনো সমস্যা না; পড়ার সময় বের করাই কঠিন। ঢাকায় অনেকগুলো ভালো বইয়ের দোকান হয়েছে; ফেসবুকে কিছু গ্রুপ আছে। অনেক বই দোকানে পাওয়া যায়। আবার অর্ডার করলে ব্যাকপ্যাকব্যাং এর মাধ্যমেও যেকোনো বই আনা যায়। রেঙ্গুন থেকে যেসব বই এনেছি সেগুলিও পড়তে হবে। সুতরাং এখন মনোযোগ দিতে হবে পড়া ও লেখায়।

সাতাশ নম্বর রোডে সুগার এন্ড স্পাইসে বসলাম। লেখার পরিবেশ সেখানে নেই। কফি খেতে খেতে শিম্প প্যারাডক্স পড়লাম। তারপর সেখান থেকে বই বিচিত্রা হয়ে আনাম রাঙ্গস প্লাজা। পার্কিঙে জায়গা নেই, তাই চুল না কাটিয়ে চলে আসলাম কিংসের সামনে। সেখানেও গাড়ি রাখার জায়গা নেই। গেলাম এডিসি আম্পায়ার প্লাজায়। গাড়ি রেখে আবার বই বিচিত্রায়, অনেক সুন্দর নোটবুক আছে – নোটপ্যাড নেই। ঘুরে ফিরে ক্রিম এন্ড ফাজে। সেখানে কিছুক্ষণ জওহরলাল নেহেরুর চিঠি সংশোধন করার কাজ করলাম। খুব বেশি এগুলো না। এটাও লেখা-পড়ার উপযোগী পরিবেশ নয়।

সেখান থেকে বেরিয়ে লালমাটিয়ায়, মেয়েকে কোচিং থেকে নিয়ে বাসায় ফিরব। লালমাটিয়া কলেজের সামনে গাড়ি পার্ক করলাম। পাশের শেডে যুবক যুবতীদের আলাপ। আহা, প্রেম!

Leave a Reply

%d bloggers like this: