৬ জুলাই ২০১৭

লুঙ্গি রহস্য এখনও পুরোটা পরিষ্কার না। তার জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। জবানবন্দির প্রতিটি কথা বিশ্বাস করা যাবে না। ভোর পাঁচটায় সে বাসা থেকে বেরিয়েছে, সাথে একটা ব্যাগ। সেই ব্যাগে কাপড়চোপড়, মোবাইল চার্জার আছে। বলছে, চোখের ওষুধ কেনার জন্য বের হয়েছে। চোখের ওষুধ এমন কোনো জরুরি ওষুধ না যে ভোর পাঁচটায় সেটি কেনার জন্য বের হতে হবে। তারপর যারা তাকে নিয়ে যাচ্ছে তারা কি ফোনে কথা বলতে দেবে। লুকিয়ে থেকে সে ফোনে কথা বলল, কিন্তু খুলনায় তাকে যখন ছেড়ে দেয়া হলো তখন কাউকে ফোন করলেন না কেন? এসব নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী বের হয়। তবে বরাবরের মতো প্রথম আলো এটিকে নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। কিছু মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

২.
আজকে আরেকটি মজার সংবাদ পড়লাম। হেফাজত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে লুঙ্গি উদ্ধার করার জন্য। মাজেজা বোঝা দায়। তাহলে কী সমীকরণ বদলানোর জন্যই এটি? লুঙ্গি নিজেও সরকারকের দিকে ঝুলচে। বলেছে, এই সরকারকে খোটা করার জন্য কেউ তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে। একজনতো বলেই ফেলল লুঙ্গি এখন ডিগবাজি খেয়ে এই সরকারের পক্ষে কাজ করবে। রাজনীতি বোঝা বড় দায়।

৩.
আজ বস ছুটিতে যাচ্ছে, আসবে ৩০ জুলাই। এই কয়েক সপ্তাহ অফিসটা ফাঁকা থাকবে। এর মধ্যে আমি আমার কেএম কোর্সটি শেষ করব। কিছু লিখব। প্রকাশককে বই দিতে চেয়েছিলাম সেটি করব। আর সফটওয়্যারের কিছু কাজ করব। আগামীতে প্রজেক্টে আর কি কি কাজ করা যায় তার পরিকল্পনাও করব। তারপর আগস্টে সব নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

৪.
আমার সৃজনশীল লেখালেখি চালিয়ে যেতে হবে। কয়েকদিন যাবৎ মেডিটেশন করা হচ্ছে না। সেটি আবার চালু করতে চাই। মেডিটেশন করলে উৎসাহ পাওয়া যায়, মন ভালো থাকে। মানুষের কল্যাণের জন্যই আমাকে ভালো থাকতে হবে। নিজে ভালো থাকলে অন্যের ভালো করা যাবে। নিজে ভালো থাকলে অন্যদের জন্য কিছু করা যাবে।

৫.
কক্সাবাজারে কিংবা শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার চিন্তা বাদ। চারদিকে বন্যা। কক্সবাজারে বন্যার সাথে সাথে পাহাড় ধ্বস। সিলেটের প্রায় স্থানেই বন্যা। এখন সড়ক ডুবে যায়নি, তবে সেটি হতে কতক্ষণ। তাই দূরে যাওয়ার চিন্তা বাদ। এখন দেখি ঢাকার আশেপাশে কোথাও যেতে পারি কি না। শাহ মেরিন রিসর্টে ঘুরে আসা যায়। সেটির তথ্য সংগ্রহ করছি।

৬.
চাকা হলো চলার প্রতীক। চলা মানেই স্থান বদল। চাকা নিয়ে অনেক কথা আছে। চাকা আবিষ্কারের চেষ্টা বারবার না করলেও আমরা চাই চাকা সবসময় ঠিকমতো কাজ করুক। চাকা সবসময় আমাদেরকে সামনে নিয়ে যাক। দরকারে পেছনে নিতে পারে, তবে তার লক্ষ্য থাকবে সামনে নেয়া, এবং বেশিরভাগ সময় নিয়ে যাবে সামনে। চাকা ছাড়া গাড়ি চলে না। গাড়িতে যেমন বাড়তি চাকা থাকে তেমনি আমাদের জীবনেও বাড়তি চাকা থাকুক সাথে, একটি চাকা বিকল হলে আমরা যেন অচল হয়ে না পড়ি। জীবনে এরকম চাকার সংখ্যা বাড়াতে হবে। চাকার মান বাড়াতে হবে, চাকার যত্ন নিতে হবে এবং এটিকে সবসময় কার্যক্ষম রাখতে হবে।

৭.
সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। স্রোতকে কিছুটা বিলম্ব করানো যায় নদীতে বাঁধ দিয়ে, কিন্তু সময়কে আটকানো কোনো উপায় নেই। সময়কে আটকানোর চেষ্টা করা বৃথা বলেই হয়ত একে আটকানোর চেষ্টা করি না আমরা। কিন্তু যে সময় চলে যাচ্ছে সেটিকে যে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করছি তাও নয়। আমাদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগই ফ্রি, সময়ও তাই। সময় কিনতে পাওয়া যায় না, সময় বিক্রি করা যায় না। তাই হাতে যে সময় পাই সেটির সর্বোত্তম ব্যবহার করা উচিত।

৮.
একটি নদীর পাড়ে একা একা বসে থাকার ইচ্ছা অনেক দিনের। কিন্তু বহুদিন ধরে এরকম কোনো নদীর পাশে যেতে পারিনি। নদীতো অনেকই আছে। কিন্তু বসা যায় কোন নদীর পাড়ে? নদীর পাড় কি এখনও মুক্ত আছে? ইচ্ছা করলেই কি যেকোনো নদীর পাড়ে গিয়ে বসা যায়? যদি বসিই, কেউ এসে উঠিয়ে দেবে না তো? কিংবা চাইবে না কোনো ট্যাক্স, চাঁদা? না, এসব ভয় থেকে নয়, নিজের আলস্য থেকেই যাওয়া হয়নি নদীর পাড়ে।

এবার নিশ্চয় যাবো। সুন্দর একটি নদীর তীরে, ছোট্ট্ একটি নদীর তীরে। সেখানে গিয়ে বসে থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নদীর পানি বয়ে যাওয়া দেখব। সেই নদীতে যদি কোনো নৌকা চলে তবে সেটি দেখব। যাত্রীদের দেখার চেষ্টা করব। আর নদীর স্রোতের শব্দের সাথে নিজের আত্মাকে মেলাব। কুল কুল শব্দের সাথে নিজের হৃদপিন্ডের ধুক ধুককে মেলাব। সারাদিন বসে থেকে থেকে আমি হারিয়ে যাবো আমার নিজের মধ্যে। নিজের মধ্য থেকে খুঁজে বের করব মণিমুক্তা। আমি যাবো, যাবো সেই নদীর কাছে, শীঘ্রই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: