লেখক

সুহৃদ সরকার

আমার জন্ম ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, নওগাঁ জেলার পোরশা থানার আমদা গ্রামে। সুহৃদ সরকার নামেই লিখে থাকি। লেখালেখির আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই, প্রথম লেখা ছাপা হয় শিশু পত্রিকায়, ১৯৮৫ সালে। তারপর লিখেছি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ। ধর্ম-বিজ্ঞান-দর্শন থেকে সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিল্প সববিষয়েই আমার আগ্রহ; আর তাই মেতে উঠেছি এসব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে। পড়াশোনা করেছি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিঙে, জাহাজেও ছিলাম কয়েক বছর। সেই সূত্রে দেখা হয়েছে বেশ কিছু দেশ, বন্দর। তারপর পড়াশোনা করেছি তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছি জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থায়। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও প্রোগ্রামিং বিষয়ে লিখেছি দুডজন বই, যার কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে - ইংরেজিতে। একটি অনূদিত হয়েছে স্প্যানিশ ভাষায়। আত্মোন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহের ফলে ইংরেজি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছি বেশ কিছু চিরায়ত বই। ইচ্ছে আছে বিশ্বসাহিত্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই অনুবাদ করার।

All blog posts by সুহৃদ সরকার

নৈশভোজ?

জীবন কী – নদী নাকি বৃক্ষ, কোন উপমাটি খাটে জীবনের জন্য? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী। সেটা ছিল জীবনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে। কিন্তু জীবন কীভাবে যাপন করা করা উচিত সে সম্পর্কে সুন্দর একটা উপমা দিয়েছেন স্টইক দার্শনিক এপিকটেটাস। তিনি বলেছেন, জীবন হলো নৈশভোজের মতো। নৈশভোজে গিয়ে তোমার সামনে যা আসছে সেখান থেকে খাবার তুলে নাও, যতটুকু তোমার দরকার, হাভাতের মতো নয়। তারপর সেটি তোমার সামনে থেকে চলে গেলে আক্ষেপ করো না। আর যেটি তোমার সামনে এখনও আসেনি সেটির জন্য হাত বাড়িও না, উদগ্রীব হয়ো না। সেটির জন্য অপেক্ষা করো, তোমার কাছে আসলে খাও অথবা পান করো সেখান থেকে। আর কোনোটি […]

ইয়োকোহামা

ইয়োকোহামায় পৌঁছুলাম রাত বারোটায়। ঝলমলে শহর নজরে পড়ছে। আর বেশি কিছু বোঝা যায় না। পোর্টটা দেখে আমাদের দেশের মতোই মনে হয়। সেই একই রকম জেটি, সারি সারি কনটেইনারের স্তুপ, লম্বা কার্গোশেড। কার্গো শেডের ওপারেই আরেকটি জাহাজ, এম. ভি. হায়দ্রাবাদ। পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ। জাহাজ ভেড়ার পরপরই  আমার ডিউটি শেষ। কেবিনে এসে শুয়ে পড়ি। কেমন হবে ইয়োকোহামা শহর এই চিন্তায় ঘুম আসে না। ইয়োকাহামার নাম শুনেছি অনেক আগে। জাপানের প্রধান বন্দরগুলোর অন্যতম এটা। শিল্পাঞ্চল হিসেবেও খ্যাতি আছে। আমাদের দেশে জাপানী অনেক জিনিসের গায়েই ইয়োকোহামার নাম দেখা যায়। টোকিও নাকি এখান থেকে কাছেই। ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে হইচই। কাপড় পড়ে তাড়াতাড়ি […]

মিজোশিমা-কাকাগাওয়া

ফুকুয়ামা থেকে জাহাজ ছেড়ে পৌঁছুলাম মিজোশিমায়। একদিনের পথ। মিজোশিমায় সমুদ্রের তীর ঘেঁষেই বিরাট স্টীল মিল। সেখানেই ভিড়েছে আমাদের জাহাজ। এখান থেকে স্টীল নেয়া হবে বাংলাদেশের জন্য।  জাহাজ ভিড়তেই কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট এসে হাজির। নোটিশবোর্ডে একগাদা কাগজ টাঙিয়ে দেয়া হলো। মনোযোগ দিয়ে সেগুলি পড়তে শুরু করলাম। প্রথমটা সমুদ্রদূষণ রোধের জন্য। তাতে জানানো হয়েছে সমুদ্র অঞ্চল যাতে দূষিত না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিল্জ বা ব্যালাস্ট আউট করা চলবে না। কোনো প্রকার আবর্জনা বা তেল পানিতে ফেলা যাবে না। সেজন্যে বিশেষ সতর্কবাণী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আরেকটা নোটিশ দেখলাম- শোরে যাওয়ার নিয়মকানুন। শোরে যেতে হলে ফ্যাক্টরি এলাকায় হাঁটা চলবে না, যেতে […]

অভিপ্রায়

আপনার সকল প্রচেষ্টাকে একটা কিছুর দিকে ধাবিত করুন, কোথায় যেতে চান সেটির দিকে দৃষ্টি দিন। কাজ আসলে মানুষকে বিরক্ত করে না, কিন্তু উদ্দেশ্যবিহীন কাজই মানুষকে পাগল করে তোলে। সেনেকা, মনের প্রশান্তি প্রসঙ্গে কোথায় যাবেন তা যদি না জানেন তাহলে আপনি যেকোনো স্থানে যেতে পারেন, অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো স্থানে। নদীতে নৌকা ছেড়ে দিয়ে চুপ করে ভেসে যেতে দিলে স্রোতের টানে সেটি কোথাও না কোথাও যাবে। তেমনি আপনার কাজের উদ্দেশ্য না থাকলে সেটি কিছু একটা করবে হয়ত, কিন্তু সেটি আপনার কোনো উপকারে আসবে কি না বলা যায় না। অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর চেশায়ার ক্যাট মধ্যকার অ্যালিসের সেই বিখ্যাত কথোপকথনটা স্মরণ করা যেতে পারে। অ্যালিস: […]