আত্ম-পরিচর্যার অনুশীলন: একান্ত নিজস্ব এক নিরাপদ আশ্রয়

Estimated read time 1 min read

এই যান্ত্রিক যুগে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছুটে চলে এক অদৃশ্য তাড়নার হাতছানিতে, সেখানে মানুষ হারিয়ে ফেলে নিজেকে। হারিয়ে ফেলে সেই নিজস্ব এক নিরাপদ আশ্রয়, যে আশ্রয়ে সে খুঁজে পেতে পারে সত্যিকারের প্রশান্তি। সেই আশ্রয়ের নাম আত্ম-পরিচর্যা।

আত্ম-পরিচর্যা মানে কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, তার সাথে জড়িয়ে আছে মানসিক এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি। যেন তিনটি তীর একসাথে নিক্ষিপ্ত হয়েছে অস্তিত্বের লক্ষ্যবস্তুতে। শরীর যেমন প্রয়োজন খাদ্য আর বিশ্রামের, মন তেমনি চায় স্বাধীনতা আর প্রশান্তির পরশ। আর আত্মা? সে প্রতীক্ষা করে সেই অন্তর্নিহিত আলোর, যে আলো জ্বালিয়ে তুলবে অস্তিত্বের প্রতিটি কোণ।

কিন্তু কিভাবে করবেন এই আত্ম-পরিচর্যা? প্রতিদিনের জীবনে খুঁজে নিতে হবে কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য। সেই মুহূর্তগুলোতে ছেড়ে দিতে হবে সব দায়-দায়িত্ব, সব চিন্তা-ভাবনা। হাঁটতে বেরোন প্রকৃতির মাঝে, চোখ বন্ধ করে শুনুন পাখির কলতান, পড়ুন প্রিয় লেখকের বই। যা কিছু আনন্দ দেয় মনকে, যা কিছু শান্ত করে আত্মাকে, তাই-ই হোক আত্ম-পরিচর্যার উপকরণ।

আত্ম-পরিচর্যার সাথে জড়িয়ে আছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – সময় ব্যবস্থাপনা। কাজের চাপ যতই বাড়ুক না কেন, নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়া অত্যাবশ্যক। অতিরিক্ত কাজের চাপ শুধু শরীরকেই ক্লান্ত করে না, মনকেও করে তোলে বিষণ্ণ। তাই নিয়মিত বিরতি নিন, নিজেকে সময় দিন, ভালোবাসুন নিজেকে। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ এবং প্রফুল্ল মনই পারে জয় করতে সব বাধা।

অনেকেই ভাবেন, আত্ম-পরিচর্যা মানে স্বার্থপরতা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আত্ম-পরিচর্যা হল আত্ম-উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপায়। একটি সুস্থ, সুন্দর, প্রফুল্ল মনই পারে ছড়িয়ে দিতে আলো সবার মাঝে। তাই আপনি যদি চান সবার মঙ্গল, তবে সবার আগে শুরু করুন নিজেকে ভালোবাসা দিয়ে। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন, নিজের মতো করে বাঁচুন।

You May Also Like